২০ হাজার টাকার বেতনেও কাটছাঁট নয়, দ্রুত পে স্কেল ঘোষণার দাবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, 4:37 am
২০ হাজার টাকার বেতনেও কাটছাঁট নয়, দ্রুত পে স্কেল ঘোষণার দাবি

নবম জাতীয় পে স্কেল

নবম জাতীয় পে স্কেলে সচিব কমিটির প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনও কমানো হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন বেতন আরও বাড়ানোর পাশাপাশি দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার ওপর ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে বেতন দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এই প্রস্তাবও কর্মচারীদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। তাদের ভাষ্য, অতীতে বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের বেতন ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বাড়ানোর নজির রয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে স্কেল প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এরই মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। ফলে নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের পক্ষে বর্তমান আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংগঠনটি জানায়, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের পক্ষ থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে দুটি পে স্কেল সমন্বয় করে সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছিল। তবে সেই দাবির তুলনায় অনেক কমিয়ে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। অন্যদিকে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব থাকলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বেতন কাঠামোয় বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি বলছে, সচিব কমিটির সুপারিশ থেকে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকাও কমানো হলে নতুন পে স্কেলের বেতন কাঠামো বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে আরও অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়বে। এতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও অস্থিরতা বাড়তে পারে। সংগঠনটির নেতারা তাই সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের সময় সর্বনিম্ন বেতনের পরিমাণ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।