দীর্ঘমেয়াদে বসবাসকারী বিদেশিদের জন্য স্থায়ী আবাসনের নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে জাপান সরকার। আগামী ১ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হতে যাওয়া নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে-তাদের বার্ষিক পারিবারিক আয় জাপানের গড় আয়ের চেয়ে বেশি।
এছাড়া জাপানি ভাষায় দক্ষতা এবং আবেদনকারীদের এমন একটি পেনশন তহবিল থাকতে হবে, যা ৩০ বছরের অর্থ প্রদানের সমতুল্য। এসব শর্ত ধাপে ধাপে ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে এপ্রিল থেকে করা আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিস জানিয়েছে, বিদেশিদের স্বনির্ভরভাবে বসবাস করতে হবে এবং রাষ্ট্রের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকা যাবে না।
জাপানের উরায়াসু-তে মেইকাই ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক রিসা হাগিওয়ারা বলেন, এই পরিবর্তন অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে এমন এক ‘বাছাইমূলক ও শর্তসাপেক্ষ’ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দেয়, যা জনসংখ্যা হ্রাসের মুখে জাপানের শ্রমশক্তির প্রয়োজনীয়তার সাথে সাংঘর্ষিক।
আল জাজিরাকে তিনি বলেন, জনসংখ্যা ও শ্রমশক্তি কমে যাওয়ায় জাপানের বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন বাড়ছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের শর্ত কঠোর হলে বিদেশি কর্মীদের কাছে জাপানের আকর্ষণ কমতে পারে।
যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের মতো উন্নত দেশগুলোর তুলনায় জাপানে বসবাসরত বিদেশির সংখ্যা এখনও কম। ওই দেশগুলোতে মোট জনসংখ্যার ১০ থেকে ১৫ শতাংশই বিদেশে জন্মগ্রহণকারী।
জাপানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছায়, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। একই সময়ে জন্মহার কমে যাওয়ায় জাপানি নাগরিকের সংখ্যাও দ্রুত কমছে।
দেশটির রাজনীতিতে ডানপন্থি ও অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের প্রভাবও বাড়ছে। পাশাপাশি এক সাম্প্রতিক জরিপে ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ জাপানি নাগরিক আরো অভিবাসী গ্রহণের বিরোধিতা করেছেন, যা ২০২৪ সালের ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।