স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বড় পরিবর্তনের আভাস, আলোচনায় লুৎফুজ্জামান বাবর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, 4:18 pm
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বড় পরিবর্তনের আভাস, আলোচনায় লুৎফুজ্জামান বাবর

ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে বিএনপির ভেতরে আলোচনায় এসেছে দলের হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের নাম।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগের পর মন্ত্রিসভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খালি হওয়া পদ পূরণের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে বড় ধরনের রদবদল হতে পারে বলে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এর অংশ হিসেবেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ আনার বিষয়টি সামনে এসেছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তিনি ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে লুৎফুজ্জামান বাবরের নাম। বিএনপির গুলশান ও নয়াপল্টন কার্যালয়ের দলীয় পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্বে বাবরকে ফেরানোর বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাবর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে তার পূর্ব অভিজ্ঞতাকে সম্ভাব্য রদবদলের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে শুধু বাবরের নামই নয়, বিএনপির আরেক নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নামও আলোচনায় রয়েছে। বর্তমানে তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক ভূমিকার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এসব দিক পর্যালোচনার পর দলের হাইকমান্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাবরকে ফেরানোর আলোচনা সামনে আসায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার হাতে যাচ্ছে, তা জানতে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।