প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কিশোরগঞ্জে ময়লার ভাগাড়ে বালির পর্দা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, 4:20 pm
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কিশোরগঞ্জে ময়লার ভাগাড়ে বালির পর্দা

ছবি : সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়কের খিলপাড়া এলাকায় প্রায় দুই দশক ধরে থাকা ময়লার ভাগাড়ের একাংশ সরিয়ে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকার ময়লার স্তূপও বালিচাপা দেওয়া হচ্ছে। রোববার কিশোরগঞ্জ সফরে আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সফরকালে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যানবাড়ি ঘাটে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন তিনি। এরপর স্থানীয় নেতাকর্মী ও সুধীজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে।

পাকুন্দিয়া থেকে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদী উপজেলায় যাবেন। সেখানে কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শনের পর আছমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তাঁর। অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৪ জন উদ্যোক্তার হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। বিকেলে জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার খিলপাড়া জেলখানা এলাকায় মহাসড়কের পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়ে আসছে। শহরের বাজার ও বাসাবাড়ির বর্জ্যের পাশাপাশি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্যও এখানে ফেলা হতো। এছাড়া পৌরসভা ছাড়াও কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর উপজেলার কিছু এলাকার বর্জ্যও এই স্থানে এনে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খোলা অবস্থায় পড়ে থাকা এসব বর্জ্য থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াত। এতে মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষ ও আশপাশের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত। বৃষ্টির পানির সঙ্গে পচা ময়লা ও বর্জ্য সড়কের ওপর চলে আসায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হতো।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছর আগে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও জনবল সংকটসহ নানা কারণে সেটি এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। ময়লার ভাগাড়টি সরানোর দাবিতে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে গত এক সপ্তাহ ধরে ভাগাড়টির কিছু অংশ থেকে ময়লা সরিয়ে বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। ফলে দূর থেকে জায়গাটিকে অনেকটাই পরিচ্ছন্ন দেখাচ্ছে।গত বৃহস্পতিবার খিলপাড়া জেলখানা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আগের মতো ময়লার বিশাল স্তূপ আর দৃশ্যমান নেই। ময়লার ওপর বালুর আস্তরণ দেওয়ায় দুর্গন্ধও তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। ফলে বর্তমানে পথচারীরা স্বাভাবিকভাবে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি এড়াতেই মূলত তড়িঘড়ি করে এই অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, সফর শেষ হওয়ার পর আবারও আগের মতো সেখানে বর্জ্য ফেলা শুরু হবে এবং সমস্যাটিও ফিরে আসবে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাময়িকভাবে বালিচাপা না দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মহাসড়কের পাশের এই ময়লার ভাগাড় স্থায়ীভাবে অপসারণ করা হবে।