প্রধানমন্ত্রীর ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন হাসনাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, 5:35 pm
প্রধানমন্ত্রীর ছয় মাসের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন হাসনাত

ফাইল ছবি

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী যে ছয় মাসের সময়সীমা দিয়ে বিরোধী দলকে পরিকল্পনা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, তা গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি সরকারের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা দেওয়ার জন্য ছয় মাসের সময়সীমা দিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন। সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে তাঁরা সমাধানের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করছেন।

তাঁর দাবি, বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক, সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি এই তিন ধাপে মোট ১৫টি প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। হাসনাত বলেন, স্বল্পমেয়াদি ৩০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য পাঁচটি, ৬ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য ছয়টি এবং দীর্ঘমেয়াদি চারটি পদক্ষেপের কথা এসব প্রস্তাবে রয়েছে। পাশাপাশি ভর্তুকি নীতি, জ্বালানি পরিকল্পনা, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা নিয়েও বিরোধী দলের পক্ষ থেকে মতামত দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর টিমের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদে বিপুলসংখ্যক সদস্য থাকার পরও বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো তাঁর কাছে পৌঁছায়নি—এমন দাবি করে হাসনাত সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী মিলিয়ে সরকারের ৬২ জন সভাসদ থাকলেও তাঁদের কেউ নাগরিক সমাজ বা বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করেননি। তাঁর মতে, বিষয়টি এখন শুধু নীতিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সরকারের সংশ্লিষ্ট টিমের দক্ষতা, কার্যকারিতা ও যোগ্যতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এনসিপির দেওয়া ১৫টি প্রস্তাব পর্যালোচনা করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আহ্বানের দাবিতেও সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ফুয়েল ও কন্টিনজেন্সি পরিকল্পনা নেই: হাসনাত

হাসনাতের অভিযোগ, গত ছয় মাসে প্রশাসনে ব্যাপক দলীয় পদায়নের ফলে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলেই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা নেই বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত জায়গায় ভর্তুকি কমানো হলেও ক্যাপাসিটি চার্জের ক্ষেত্রে তেমন পরিবর্তন আনা হয়নি।

তাঁর দাবি, সচিবালয়ে নতুন ও অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের অনেকেই বিভিন্ন লবিগোষ্ঠীর পরামর্শের ওপর নির্ভর করছেন। মহেশখালী এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ না করারও সমালোচনা করেন তিনি।

মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নের দাবি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে ডলার সংকট এবং বকেয়ার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও ভারী শিল্পগুলো সংকটে পড়ার পরও মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি-২০২৫ বাস্তবায়ন না করার প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত। তিনি বলেন, এই নীতির আওতায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকরা সরাসরি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করবে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত থাকবে।

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার সুযোগও থাকবে। হাসনাতের দাবি, এই ব্যবস্থা চালু করতে মূলত সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ) ও হুইলিং চার্জের কাঠামো চূড়ান্ত করলেই হবে। তাঁর মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদি কোনো জটিল প্রক্রিয়া নয়; প্রশাসনিকভাবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই করা সম্ভব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগেই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখন ছয় মাসের সময়সীমা মেনে নেওয়া হলেও এই সময়ের হিসাব সরকারের জন্যই প্রযোজ্য হবে।

‘ছয় মাস পর জনগণ হিসাব চাইবে’

হাসনাত বলেন, মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নে যদি ছয় মাসের বেশি সময় লাগে, তাহলে বিষয়টি আর শুধু নীতিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা যাবে না; বরং তা সরকারের সক্ষমতার ঘাটতির প্রমাণ হবে। তিনি আরও বলেন, কৌশলগত খাতে অযোগ্য বা ব্যর্থ ব্যক্তিদের দিয়ে বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে সেটিকে পরিকল্পনা হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না। তাঁর ভাষায়, এটি পরিকল্পনা থাকার প্রমাণ নয়, বরং পরিকল্পনার ঘাটতিই প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রীকে বিরোধী দলকে চ্যালেঞ্জ না দিয়ে সরকারের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ছয় মাস ধরে সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও দেশে কেন এত বেশি লোডশেডিং হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ সংকটে দেশ কেন বিপর্যস্তএসব প্রশ্নের জবাব সরকারের কাছ থেকেই আসা উচিত বলে দাবি করেন হাসনাত। শেষে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের প্রস্তাব বিরোধী দলের হাতে রয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষমতা সরকারের হাতে। ছয় মাস পর জনগণই মূল্যায়ন করবে দেশ অন্ধকারে থাকার কারণ ছিল সমাধানের অভাব, নাকি তা বাস্তবায়নের সক্ষমতার ঘাটতি।