শ্রীপুরে অটোরিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির পাঁচজন আটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, 5:04 pm
শ্রীপুরে অটোরিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির পাঁচজন আটক

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীকে নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে অটোরিকশাচালক রুহুল আমিন (৩৮)কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কুমারভিটা গ্রামের শ্বশুরবাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে রুহুল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, এর আগের দিন শুক্রবার দিবাগত রাতে শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

নিহত রুহুল আমিন একই ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামের আতাহার আলীর ছেলে। তিনি কুমারভিটা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন এবং অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ব্যক্তিরা হলেন রুহুল আমিনের শ্বশুর রফিক (৫৫), স্ত্রী হালিমা খাতুন (৩৫), শ্যালক শাহজাহান (২৭), চাচাশ্বশুর তাজউদ্দীন (৫০) এবং তাজউদ্দীনের মেয়ে রিমি (১৬)।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থাকার কারণে রুহুল আমিনের সঙ্গে স্ত্রী হালিমার প্রায়ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ হতো। হালিমা একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির মুঠোফোনে কথাবার্তা বলা নিয়ে রুহুল আমিনের সন্দেহ তৈরি হয়েছিল বলে স্বজনেরা দাবি করেন।তাঁদের ভাষ্য, শুক্রবার রাতে এ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শ্বশুর রফিক, স্ত্রী হালিমা ও শ্যালক শাহজাহানসহ পরিবারের কয়েকজন রুহুল আমিনকে মারধর করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, মারধরের সময় রুহুল আমিনের শিশুকন্যা আফরিন ঘুম থেকে উঠে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করলেও তাঁকে মারধর করা বন্ধ হয়নি। পরে রুহুল আমিন মারা গেছেন বুঝতে পেরে তাঁর মরদেহ বাড়ির পাশের জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়।নিহতের ছোটবোন ফাতেমা খাতুনের দাবি, তাঁর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনা গোপন করার উদ্দেশ্যেই মরদেহ বাড়ির পাশের জঙ্গলে নিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিহতের বড়ভাই লিটনের ভাষ্য, রুহুল আমিন স্থানীয় একটি এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ওই ঋণের জামিনদার ছিলেন তাঁর চাচাশ্বশুরের ছেলে। ঋণের প্রায় ১৪ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় এনজিওকর্মীরা জামিনদারের বাড়িতে গিয়ে কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ দিতেন। এ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে রুহুল আমিনের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল।লিটনের দাবি, স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধ এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বের জেরেই রুহুল আমিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহতের শ্যালক শাহজাহানের স্ত্রী। তাঁর দাবি, ঘটনার রাতে তিনি ও তাঁর স্বামী বাড়িতে ছিলেন না; তাঁরা তাঁর বাবার বাড়িতে ছিলেন। রুহুল আমিনকে কারা মারধর করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তাঁর স্বামী ঘটনাস্থলে না থাকলেও পুলিশ তাঁকে আটক করেছে বলে তিনি দাবি করেন।শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, নিহতের শিশুকন্যার বক্তব্যের ভিত্তিতে তাঁর শ্বশুর, স্ত্রী, শ্যালক, চাচাশ্বশুর ও চাচাশ্বশুরের মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

ওসি জানান, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।