রংপুরে গ্যারেজ মালিক হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, 6:10 pm
রংপুরে গ্যারেজ মালিক হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

ছবি : সংগৃহীত।

রংপুর নগরীর তাজহাট আনসারীর মোড় এলাকায় ব্যাটারিচালিত চার্জাররিকশা গ্যারেজের মালিক আব্দুর রহমান (৬৫) হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে র‍্যাব-১৩ গ্রেপ্তার তিনজনকে তাজহাট থানায় হস্তান্তর করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রংপুরের মাহিগঞ্জ থানার পূর্বখাসবাগ এলাকার দুলাল মিয়া (৪৫) এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এলাকার ফিরোজা বেগম (৫৫) ও রেজাউল ইসলাম (৫৫)।

র‍্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মাহিগঞ্জ থানা এলাকা থেকে দুলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানা এলাকা থেকে ফিরোজা বেগম ও রেজাউল ইসলামকে আটক করা হয়। র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ে, তালাক এবং আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করেই আব্দুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তাজহাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে।

র‍্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে ফিরোজা বেগমের স্বামী মারা যান। অন্যদিকে দুলাল মিয়া নিহত আব্দুর রহমানের গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালাতেন। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে আব্দুর রহমানের স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে যান। পরে দুলাল মিয়া মধ্যস্থতা করে আব্দুর রহমানের সঙ্গে ফিরোজা বেগমের বিয়ে দেন। তবে বিয়ের পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে ফিরোজা সংসার করবেন না বলে জানান। পরে দুলালের মধ্যস্থতায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের তালাক সম্পন্ন হয় বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

র‍্যাব আরও জানায়, বিয়ের সময় দুলাল মিয়া আব্দুর রহমানকে দুটি অটোরিকশা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তালাকের পর ফিরোজার কাবিনের ৫০ হাজার টাকা দুলাল নিজের কাছে রেখে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগের দিন অটোরিকশা উদ্ধারের কথা বলে ফিরোজার কাছে আরও চার হাজার টাকা দাবি করেন দুলাল। টাকা না দিলেও ফিরোজা একটি অটোরিকশা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

র‍্যাবের দাবি, পরবর্তী সময়ে দুলাল মিয়া ও ফিরোজা বেগমের সঙ্গে রেজাউল ইসলামও যুক্ত হন। তিনজনের যোগসাজশে আব্দুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও এর পেছনের কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাজহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‍্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।