১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির মূল দলিল কোথায়, জানে না নেপাল সরকার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, 6:28 pm
১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির মূল দলিল কোথায়, জানে না নেপাল সরকার

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির মূল স্বাক্ষরিত দলিলের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে নেপাল সরকার। দেশটির জাতীয় আর্কাইভসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অনুসন্ধান চালিয়েও ঐতিহাসিক চুক্তিটির মূল কপি কোথায় সংরক্ষিত রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল প্রতিনিধি সভায় দেওয়া বক্তব্যে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের কাছে সুগৌলি চুক্তির মূল স্বাক্ষরিত দলিল সংরক্ষিত আছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।

পার্লামেন্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় আর্কাইভে ঐতিহাসিক বিভিন্ন চুক্তির নথি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সেসব নথির মধ্যে কোনটি সুগৌলি চুক্তির মূল দলিল, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এর আগে ২০১৯ সালে নেপালের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গাওয়ালী জানিয়েছিলেন, সুগৌলি চুক্তির একটি কপি নেপালে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে এবার চুক্তিটির মূল স্বাক্ষরিত দলিলের অবস্থান নিয়ে সরকারের অনিশ্চয়তার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলো।

যে চুক্তিতে নির্ধারিত হয় নেপালের সীমানা

১৮১৪ থেকে ১৮১৬ সাল পর্যন্ত চলা অ্যাংলো-নেপাল যুদ্ধের অবসানের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও নেপালের মধ্যে সুগৌলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্যারিস ব্র্যাডশ এবং নেপালের রাজা গিরবাণ যুদ্ধ বিক্রম শাহের পক্ষে রাজগুরু গজরাজ মিশ্র চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিটি নেপালের আধুনিক ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণের অন্যতম প্রধান আইনি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। পরবর্তী সময়ে ভারতের স্বাধীনতার পর দুই দেশের সম্পর্ক পরিচালনায় নতুন বিভিন্ন চুক্তি ও নথি যুক্ত হলেও সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সুগৌলি চুক্তির গুরুত্ব এখনো রয়েছে। বর্তমানে ভারত-নেপাল সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ১৯৫০ সালের ভারত-নেপাল শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি এবং দুই দেশের যৌথ কারিগরি ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

কালাপানি-লিপুলেখ নিয়ে বিরোধ

ভারত ও নেপালের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের অন্যতম কেন্দ্র কালাপানি, লিম্পিয়াধুরা ও লিপুলেখ অঞ্চল। নেপালের দাবি, এসব এলাকা তাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ভারত অঞ্চলগুলোকে উত্তরাখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। ২০১৯ সালে ভারত নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশের পর এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায় নেপাল। কাঠমান্ডুর দাবি, বিতর্কিত এলাকাগুলো নেপালের সুদূরপশ্চিম প্রদেশের দারচুলা জেলার অন্তর্ভুক্ত। পরে ভারত ও চীনের মধ্যে লিপুলেখ পাস দিয়ে বাণিজ্যপথ চালুর বিষয়ে সমঝোতা হলে সীমান্ত বিরোধটি আবারও আলোচনায় আসে। নেপাল এ নিয়েও আপত্তি জানিয়ে আসছে।

আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে নেপাল

দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ থাকলেও নেপাল কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে চায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিতর্কিত এলাকাগুলো নিয়ে নেপালের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের পক্ষে কাঠমান্ডু।

সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল প্রতিবেশী ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সুবিধা এবং একে অপরের বৈধ স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতার ভিত্তিতেই দুই প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় নেপাল।

সূত্র: এনডিটিভি